ছাত্রদল নেতা শাকিল আহমেদ হত্যাকাণ্ডে ছেলের সম্পৃক্ততার জেরে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের একটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় শুরু হলেও এটি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি, সে বিষয়ে চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকাল থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক নগ্ন পুরুষের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর কথোপকথন দেখা ও শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই এমপি আব্দুল আজিজ তাঁর পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি আব্দুল আজিজ দাবি করেন, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ দল ও বিরোধী পক্ষের গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এই ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
ভিডিও কাণ্ডের পর বুধবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিখিত বক্তব্যে জানান, ‘আশফাক আহমেদ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে এমপির সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এটি প্রথম ছড়ানো হয়। বিএনপি নেতারা ইতোমধ্যে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং আগামী শুক্রবার জেলা বিএনপির জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিএনপির হাইকমান্ডকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বিএনপি নেতা জানান, এমপি আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও পারিবারিক নীতিসংক্রান্ত নানা গুরুতর অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে, স্থানীয় ছাত্র ও যুবনেতারা এমপির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন—ভিডিওটি যদি সত্যিই ভুয়া হয়ে থাকে, তবে আত্মগোপনে না থেকে প্রকাশ্যে এসে তাঁর নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল আহমেদকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু সরাসরি জড়িত অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৭ অক্টোবর শাকিলের জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হেনস্তার শিকার হন এমপি আব্দুল আজিজ, যার ঠিক পরদিনই এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
