ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, দলীয়করণ ও নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব গণমাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও তথ্যের সঙ্গে এ বক্তব্যের মিল নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটের পরিবেশকে সুষ্ঠু বলা যায় না। বাস্তব ঘটনা সম্পর্কে অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টার নিন্দা জানান তিনি।
জামায়াতের এই নেতা জানান, নির্বাচনের আগে দলটির মিডিয়া ও প্রচার বিভাগ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ও বর্তমান দায়িত্বশীলদের সমন্বয়ে একটি বড় দল ঠাকুরগাঁওয়ে কাজ করেছে। নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের ছয় সদস্যের কাছে নয় দফা লিখিত অভিযোগ ও তিনটি দাবি জানানো হয়েছিল।
এ ছাড়া গত বুধবার ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আজাদের নেতৃত্বে একটি সমন্বয়ক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে। কিন্তু কমিশন দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভোটারদের বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
নির্বাচনি অনিয়মের বিবরণ দিতে গিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি এক নারী ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ভোটারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো, রঙিন পোস্টার ব্যবহার এবং ধানের শীষের রঙিন প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
তার দাবি, অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছিল না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর পর হাতে নাম লিখে পরিচয়পত্রের মতো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিচয়পত্র ছাড়া দায়িত্ব পালনকারীদের প্রকৃত পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, একটি মুড়ি বইয়ে আগেই ২২টি সিল ও স্বাক্ষর করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য, জাল ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতেই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল জামায়াত
নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জনগণের আস্থা কমেছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকারসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







