ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে প্রার্থী নির্ধারণ এবং তাদের নির্বাচিত করার দায়িত্ব সংসদ সদস্যের—এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার দুপুরে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার ও চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবেন, নলা নিয়ে বাড়িতে যাইতে পারবেন না। মেম্বার, চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে এমপি, এটা এমপির দায়িত্ব। মনোনয়ন দিবে এমপি, তবে মনোনয়ন এমপি এককভাবে দিবে না। স্ব স্ব ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কানা-আন্ধা যারে দিবো, সেই যোগ্য। কোনও আওয়াজ করা যাবে না, ভাই হেতে অযোগ্য, হেতেরে এমপি সিদ্ধান্ত দিছেন তোমাদেরকে নিয়ে, এটাই তার যোগ্যতা।”
বক্তব্যে তিনি আরও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবেন না। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নেতাকর্মী সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সালেহ আহমদ সালেহ, যুবদল নেতা নাসির উদ্দিন, জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি হামিদুল হক ভূঁইয়া, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, যারা দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের উসকানিমূলক কথা বলছেন, মূলত তাদের উদ্দেশেই তিনি ওই কথাগুলো বলেছেন।
তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ালে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ী হওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। সে কারণেই নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্মিলিতভাবে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করা হবে—তিনি মূলত সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন এবং এককভাবে কাউকে পকেট থেকে মনোনয়ন দেবেন—এমন কথা তিনি বলেননি।
