দেশের প্রধান ও শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোতে সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের’ অভিযোগ উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে একজন প্রার্থীর নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে কোটি কোটি টাকা, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচের চিত্র পাওয়া গেছে স্বয়ং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ভাষ্যেই।
গত রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরা হয়।
তিন প্রভাবশালী দলের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন ও মনোনয়ন বিক্রির ক্ষেত্রে দেশের প্রভাবশালী তিন দল—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে সরাসরি কোটি কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্যের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে দলগুলো এই বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করলেও তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকারেই এর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছে। যেখানে নির্বাচনে একেকজন প্রার্থী ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঢালছেন, সেখানে নির্বাচন কমিশনে দলগুলো বছরে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার অনিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিচ্ছে। দলীয় আর্থিক ব্যবস্থার এই অস্বচ্ছতাই মূলত পর্দার আড়ালে অবৈধ অর্থায়ন ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের পথ প্রশস্ত করছে।
এক দশক ধরে কাউন্সিলহীন বিএনপি, আচ্ছন্ন পরিবারতন্ত্র: প্রতিবেদনে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র চর্চার চরম সংকট চিহ্নিত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির গবেষকরা জানান, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করেনি।
নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়া, তৃণমূলের মতামতের মূল্যায়ন না থাকা এবং একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের কারণে রাজনীতিতে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক কর্তৃত্বপরায়ণতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। টিআইবি জানায়, বর্তমানে দেশের অন্তত ১০টি শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পারিবারিক সূত্রে নিয়ন্ত্রিত ও নির্ধারিত হচ্ছে। এর ফলে ত্যাগী ও সাধারণ কর্মীদের নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে দলগুলো ওপরের স্তরের মুষ্টিমেয় শীর্ষ নেতার পকেটে বন্দি হয়ে পড়ছে।
