সৌদি আরবের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রিয়াদ (বাংলা শাখা)-এর আসন্ন বোর্ড অব ডিরেক্টরস (বিওডি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম কোন্দল ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার, প্যানেল গঠন এবং পদ-পদবি বণ্টন নিয়ে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের শিফা এলাকায় সাবেক বিওডির কয়েকজন সদস্য এবং প্রবাসী বিএনপি নেতা-কর্মীরা এক যৌথ বৈঠকে বসেন। সাবেক বিওডির বিতর্কিত ও সমালোচিত সদস্য রফিকের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে প্যানেলে নিজ অনুসারীদের জায়গা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি ভাগাভাগি নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পদ ভাগাভাগির সমঝোতা না হওয়ায় বিএনপি সমর্থিত দুই প্রার্থী রোকনুজ্জামান ও শফিক সিরাজের মধ্যে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
হাতাহাতির এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা মাঠে নামেন। নির্বাচন কমিশনের সদস্য আবুল বাসার ও সেলিমের সরাসরি উপস্থিতিতে শিফা এলাকার একটি ইস্তেরাহায় গোপন ‘সমঝোতা বৈঠক’ বসানো হয়।
তবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে প্রার্থীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তির বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের সশরীরে উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ অভিভাবক ও অন্যান্য সাধারণ প্রার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সেখানে বিএনপি প্রার্থীদের দলীয় কোন্দল মেটাতে কমিবশনের সদস্যদের এই মধ্যস্থতার ভূমিকা তাদের নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওআই)-এর বিধিবিধান এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে বিশেষ একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে তাড়াহুড়ো করে নির্বাচনী তফসিল প্রকাশ করা হয়েছে।
একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাদের এই লজ্জাজনক হাতাহাতি, পদ-পদবির নগ্ন দরকষাকষি এবং নির্বাচন কমিশনের এমন বিতর্কিত আচরণে সাধারণ অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
