নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে টানা আট ঘণ্টা বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি নাটোর জেলা বিএনপি। ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় তাঁর ছেলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং সংসদ সদস্যের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ বৈঠকের পরও জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এমনকি বৈঠকের সিদ্ধান্তসংবলিত রেজুলেশনও কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে এ বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ জানান, ওই বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সদস্য সচিব নিজের উদ্যোগে এ বিষয়ে নেতাদের মতামত জানতে চান। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে মতামত পাঠাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, বৈঠকে উপস্থিত জেলা বিএনপির ২৩ জন নেতা আব্দুল আজিজের বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সবার বক্তব্যেই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ছিল।
তিনি আরও জানান, আব্দুল আজিজ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপস্থিত নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ভিন্নমত পোষণ করায় বিষয়টি আটকে গেছে।
এর আগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের তিনটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৮ অক্টোবর বুধবার সকাল থেকে ভিডিওগুলো ভাইরাল হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
একদিকে ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপির ছেলের গ্রেপ্তার, অন্যদিকে সংসদ সদস্যের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে আব্দুল আজিজকে খাটে লুঙ্গি পরা ও খালি গায়ে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় এক নারীর কণ্ঠে তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন আপত্তিকর কথাবার্তা শোনা যায়।
তবে ভিডিওগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাঁর সুনাম ও সুখ্যাতি নষ্ট করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব ভিডিও তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
