১১ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্ক অবশেষে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দলটির সদ্য ঘোষিত নতুন কমিটিতে পদাবনতির শিকার হয়ে অবশেষে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বিতর্কিত নেত্রী সামান্তা শারমিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন এবং নেটিজেনদের জোরালো দাবির মুখে অভিযোগ উঠেছে, সামান্তা শারমিন কেবল একা নন; বরং এই জোটে শত্রুপক্ষের আরও বেশ কিছু গুপ্তচর ঘাপটি মেরে রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের টিকিটে কাঙ্ক্ষিত নারী সংসদ সদস্য পদ না পাওয়ার ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও হতাশা থেকে তিনি নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন—এমন আলোচনাও রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সমালোচকদের মতে, পদবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভের চেয়েও তিনি শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
সমালোচকদের কঠোর ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত শাহবাগী ও সুবিধাবাদী এই চক্রের যতোবত মাথাাব্যথা কেবল বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বা একক সমালোচনার ক্ষেত্রেও তাদের মুখে কুলুপ আঁটা থাকে। পর্দার আড়ালের ‘প্রভাবশালী মহলের’ গোসসা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ভয়ে তারা কখনোই সরকারের বিরুদ্ধে টু শব্দটিও উচ্চারণ করে না।
এদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—দেশজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, লাগামহীন চাঁদাবাজি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ, রাষ্ট্রীয় লুটপাট কিংবা ঐতিহাসিক জুলাই সনদ নিয়ে নানামুখী মোনাফেকি ও লুকোচুরি নিয়ে এই চক্রটিকে কখনোই একটি শব্দও খরচ করতে দেখা যায় না।
সারাদিন এদের মূল লক্ষ্য ও ব্যস্ততা থাকে প্রতিপক্ষ বা শত্রুপক্ষের স্বার্থ (পাসপাস সার্ভ) রক্ষা করা। বিভিন্ন ঠুনকো ও অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুকে বড় করে তুলে ১১ দলীয় জোটের অভ্যন্তরে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই ছিল তাদের মূল কৌশল, যার শেষ সুবিধা দিনশেষে কুক্ষীগত করে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিগুলো।
এনসিপির সাম্প্রতিক পুনর্গঠিত কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে আগের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে কমিয়ে কেবল যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। নিজের কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন না পেয়ে এবং সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায় অবশেষে ওই বিতর্কিত নেত্রী এনসিপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল দায়িত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
