কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি আস্তানায় পলায়নপর চক্রের গুলিতে সেনাবাহিনীর এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে সফল এই অভিযানে মানবপাচারের শিকার ৫৭ জন জিম্মিকে উদ্ধার এবং অস্ত্রসহ তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের মোট ৬৩ সদস্যের একটি শক্তিশালী যৌথ দল নয়াপাড়া ও লেদা পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি শক্তিশালী মানবপাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনা। চক্রটি প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী ও সাধারণ মানুষকে গহীন জঙ্গলের ভেতরে বন্দি করে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের জঘন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছিল।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযানকারী যৌথ দল পাচারকারীদের আস্তানা চারদিক থেকে ঘেরাও করলে কোণঠাসা হয়ে পড়া সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করে। জীবন বাঁচাতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবিনিময় হয়।
এই মুখোমুখি লড়াইয়ের সময় ১ বীর (১ বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট)-এর সাহসী সৈনিক তিতাস কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মেডিকেল অফিসার তাঁকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসীদের বুলেট প্রতিহত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। কুখ্যাত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. আলম ও মো. সাদ্দাম ডাকাত চক্র এই মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভিযান শেষে পুলিশ ও আইএসপিআর জানায়, পাহাড়ি আস্তানা থেকে পাচারের শিকার হওয়া বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মোট ৫৭ জন ভুক্তভোগীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল তল্লাশি করে একটি দেশি ওয়ান শুটার গান ও একটি পিস্তলসহ মোট তিনজন পাচারকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ. এন. এম. সাজেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত সেনাসদস্যের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা বাকি মানবপাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করতে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
