ভারতের ইশারায় দেশের শিক্ষা কাঠামো সাজানো হয়েছিল এবং তা জাতিকে পরনির্ভরশীল ও ‘দাস’ বানিয়ে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকালে ফেনী আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসায় আয়োজিত আলিম শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া কথাগুলো বলেন।
শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী যে শিক্ষাকাঠামো তৈরি করা হয়েছে সেখানে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও যে শিক্ষাকাঠামো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি পরীক্ষাসর্বস্ব। ১৮৮৩ সালে প্রণীত সেই পুরোনো ঔপনিবেশিক কাঠামোতেই এখনো আমাদের দেশ চলছে, যেখানে কেবল পরীক্ষা, পাস আর সার্টিফিকেট দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। একটি স্বাধীন জাতিকে সঠিক পথে গড়ে তোলার উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে আমরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি।
বর্তমান ভূরাজনীতি ও আধিপত্যবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আমাদের দীর্ঘকাল ধরে আধিপত্যবাদের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত করে রাখা হয়েছে। আধিপত্যবাদীরা এ দেশের মানুষকে দাস হিসেবে জিইয়ে রাখতে চায়, যেন তাদের হুকুম অন্ধের মতো মেনে নেওয়া হয়। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার ঠিক এ কারণেই ভারতের প্রতিটি নির্দেশ অন্ধের মতো পালন করেছে এবং তাদের ইচ্ছেমতোই আমাদের জাতীয় শিক্ষাকাঠামো সাজানো হয়েছিল।
তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চলছে দাবি করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, সামগ্রিকভাবে নিজেদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে হলে আগে আত্মিক ও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। বর্তমানে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করতে ফেসবুক ও ইউটিউবের রিলস আসক্তিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের যুবসমাজ ও ছাত্রদের বড় একটি অংশ আজ এই অপসংস্কৃতিতে আসক্ত। এই সর্বনাশা আসক্তি থেকে যুবসমাজকে অবিলম্বে বেরিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলিম পড়ার এই সময়টি জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই সোনালী সময়টিকেই নিজের জীবন গঠনের কাজে লাগাতে হবে। প্রকৃত ইলম বা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। মানুষ ব্যর্থ হলে দিনশেষে কেউ পাশে থাকে না, তাই সফল হওয়ার বিকল্প নেই। ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও সঠিক পথযাত্রায় পাশে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মাদরাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফাহাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, ছাত্রশিবিরের শহর সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান প্রমুখ।
