যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানে পারমাণবিক বোমার অধিকারী হওয়ার জোর তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগে কেবল দেশটির কট্টরপন্থী মহলেই যা সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা মূলধারার রাজনীতি, নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাদের আলোচনাতেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইরানের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশের যুক্তি, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনো সম্ভাব্য সর্বাত্মক হামলা সম্পূর্ণ ঠেকানোর জন্য ইরানের পারমাণবিক আত্মরক্ষা বা ‘নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স’ অর্জন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই।
দেশের পারমাণবিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা মহসেন রেজায়ি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তেহরানের আগের পারমাণবিক নীতি বা ডকট্রিন বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ ইরানের মধ্যপন্থী ও কিছু রাজনৈতিক দল এখনো আন্তর্জাতিক চুক্তি রক্ষা করে পারমাণবিক কর্মসূচিকে বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ রাখার পক্ষেই নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ও কতিপয় সাংসদ পারমাণবিক অস্পষ্টতার নীতি ছেড়ে পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তি (NPT) থেকে বের হয়ে যাওয়ার যে দাবি তুলছেন, তা তেহরানের ওপর দিন দিন বড় চাপ তৈরি করছে।
