যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ও রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বাড়ানোর আগ্রাসী হুমকি ছুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাখ্যান ও দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও সামরিক হুঙ্কার দিয়ে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনে হারের রেষ না কাটতেই ট্রাম্প এই হুমকি দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “এখন ভাবছি—এই লড়াই কি আমরা আরও সামনে নিয়ে যাব এবং একবারে শেষ দেখে ছাড়ব? যাতে এই ঝামেলা বা বিপদ আর কখনো ফিরে আসতে না পারে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর আগ্রাসী মনোভাব আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যদি সম্ভব হয় তবে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস না করতেই পছন্দ করব, তবে হয়তো আমাকে তা-ই করতে হতে পারে। আর আপনারা খুব শিগগিরই তা জানতে পারবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি মার্কিন অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে পড়েছে। যুদ্ধজনিত পণ্যের আকাশচুম্বী দাম ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোটাররা ব্যালটে নিজেদের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরাজয়ের এই চরম বাস্তবতা স্বীকার করার পরও ট্রাম্প দাবি করেন, এই যুদ্ধের ক্ষত সামলে ইরানের আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত ২৫ বছর লেগে যাবে।
এদিকে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থা কাটানো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো গোপন প্রস্তাব পাঠিয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বেশ মেজাজ হারিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ অনুমোদন ও সবুজ সংকেত ছাড়া ইরান বা কোনো পক্ষ মধ্যস্থতার সাহস পাবে না।
