রাজধানী ঢাকাজুড়ে হঠাৎ করেই ব্যাপক নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) সারাদিনে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিকভাবে অন্তত ২০টির বেশি হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণ এবং যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সহিংসতায় পুরো ঢাকা নগরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
গোয়েন্দা সূত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘটিত এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে একেবারে মালিবাগের সিআইডি সদর দপ্তরের সামনে পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে তা ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্যস্ততম এই এলাকাগুলোতে একের পর এক বিস্ফোরণে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।
বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একের পর এক নাশকতার ছক বাস্তবায়ন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে ও আশপাশের অন্তত ছয়টি ভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন মোড়, সিনেট ভবন এলাকা, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের নিকটবর্তী স্থান, ইউল্যাব স্কুলের সামনে, নীলক্ষেত মোড় এবং ঐতিহাসিক মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণসংলগ্ন এলাকা।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেও একই কায়দায় হামলা চালানো হয়। মালিবাগে অবস্থিত সিআইডি সদর দপ্তরের ঠিক সামনেও দুর্বৃত্তরা হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এর বাইরেও যাত্রাবাড়ী, বনানী, আদাবর, শাহবাগ, খিলগাঁও, বিমানবন্দর ও কালশীর মতো জনবহুল এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ককটেল বিস্ফোরণের একাধিক খবর পাওয়া গেছে।
শুধু ককটেল বিস্ফোরণেই নয়, নাশকতার মাত্রা বাড়াতে রাজধানীজুড়ে যানবাহনেও আগুন দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এদিন রাজধানীর মহাখালী ও মিরপুরের পল্লবী এলাকায় দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যেই যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে। আকস্মিক এই বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে সড়কে তীব্র যানজট ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে হাহাকার শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, রাজধানীজুড়ে চালানো এসব সুপরিকল্পিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সরাসরি নির্দেশনা ও দূরবর্তী পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এই দূরভিসন্ধি আঁটা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নাশকতার সময় হাতেনাতে বড় ধরনের সাফল্যও মিলেছে। সংঘটিত এসব হামলায় সরাসরি অংশ নিতে গিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার তিন দুষ্কৃতকারীকে স্থানীয় জনতা সাহসিকতার সঙ্গে ধাওয়া করে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরবর্তীতে গণপিটুনি ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নাশকতার মূল হোতা ও পেছনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
