ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নতুন এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে এসে ধরা পড়ে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রোকেয়া হলে’র আবাসিক ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তিনি স্বীকার করেন যে, আসলে তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ করেন স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে দাঁড়ানো এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।
প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মনিরুজ্জমান নামে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সমর্থিত প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী হাসিবুর রহমান সাকিবের পক্ষে লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি স্বতন্ত্র প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিকে লিফলেট দিয়ে ভোট চাইলে রনি তার পরিচয় জানতে চান। রনির জেরার মুখে ওই শিক্ষার্থী নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রোকেয়া হলে’র আবাসিক ছাত্র বলে পরিচয় দেন। যদিও রোকেয়া হল মেয়েদের বলে জানানোর পর সেই ছেলে নিজেকে ঢাকা কলেজের ছাত্র বলে স্বীকার করেন। এ সময় ঢাকা কলেজের ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।
একই পেজে ‘ডাকসু নির্বাচনে বহিরাগত এনে প্রচারণা চালাচ্ছে ছাত্রদল’ শিরোনামে দেয়া আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কার্জন হল এলাকায় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সদস্য পদপ্রার্থী নিত্যনন্দ পালের পক্ষে ভোট চাইতে আসা এক শিক্ষার্থীকে মহিউদ্দিন রনি ঢাকা কলেজের ছাত্র কিনা জিজ্ঞেস করতেই তিনি স্বীকার করে নেন।
ভিডিওতে মহিউদ্দিন রনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ঢাকা কলেজের ছাত্র এসে ভোট চাওয়া আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ছাত্রদলের ভাইয়েরা যেটা করছেন এটা অন্যায়। এর আগেও কয়েকজনকে দেখেছি, এটা দেখলাম, আরও কয়েকজনকে দেখা যাচ্ছে।
রনি আরও বলেন, বহিরাগত নিয়ে আজকে আপনারা প্রচারণা চালাচ্ছেন, ভোটের দিন দেখা যাবে বহিরাগত এনে বিশাল লাইন দিয়ে রাখবেন। এমনও তো হতে পারে আপনারা আওয়ামী লীগের মতো ভোট পিটাবেন। এটা আসলে একটা ঘৃণিত কাজ।

এদিকে বিষয়টি বিষয়টি নজরে আসার পর ছাত্রদলের সদস্য প্রার্থী হাসিবুর রহমান সাকিব নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে লেখেন, হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার লিফলেট নিয়ে এক ছেলেকে প্রচার করতে দেখা যাচ্ছে মহিউদ্দিন রনি’র নিজ প্রোফাইলে আপলোড করা ভিডিওতে। কিন্তু আমি তাকে চিনতে পারিনি।
তিনি আরও লেখেন, আমার লিফলেট বিভিন্ন হলে আমার ছোটো ভাইদেরকে দিয়ে রেখেছি প্রচারণার জন্য। আমি ওদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছি কেউ দিয়েছে কিনা। তারা বলেছে এই লিফলেট কেউ দেয়নি। নির্বাচন কমিশনকে তদন্ত করতে বলব এই বিষয়ে। বহুদিন পর কাঙ্ক্ষিত ডাকসু হচ্ছে। এই ডাকসু’র মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে তা সবসময় বজায় থাকুক। আমরা সবাই মিলে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ব।

এদিকে রাতে আরেক পোস্টে মহিউদ্দিন রনি লেখেন, ডাকসু নির্বাচন প্রচারণায় ছাত্রদল ক্যাম্পাসে বহিরাগত এনে শিক্ষার্থী ভাইবোনদেরকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলায় চিফ রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে।







