বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–বিএনপির জন্য এখন ‘এলার্মিং পিরিয়ড’ চলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মাঠের ভোটের ফ্লো ক্রমেই বিএনপির বিপরীতে যাচ্ছে। বড় প্রশ্ন হচ্ছে—কার পক্ষে ভোট যাচ্ছে সেটি নয়, বরং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ প্রকাশ্যে বলছে যে তারা বিএনপিকে আর ভোট দিতে চায় না।
গ্রামীণ আড্ডায়, চায়ের দোকানের আলোচনায় এখন খোলাখুলি উচ্চারিত হচ্ছে বিএনপিবিরোধী অবস্থান। দীর্ঘদিন ভয়-সংকোচের কারণে যা মুখে আসত না, এখন অনেকেই তা সরাসরি বলছেন। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি এই ভোট যাবে জামায়াতের দিকে?
অনেকেই সরাসরি জামায়াতকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন, যদিও এখনো কিছুটা লজ্জা বা জড়তা কাজ করছে। তবে আগের তুলনায় এ জড়তা অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যত সময় যাবে এই দ্বিধা কাটবে, আর জামায়াতের ভোটও তত বাড়বে।
এ অবস্থায় বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে জনগণের সামনে একটি স্পষ্ট ও ইতিবাচক ন্যারেটিভ উপস্থাপন করা। শুধু জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধী বা পাকিস্তানপন্থী আখ্যা দেওয়া বিএনপির শক্তিশালী যুক্তি হতে পারে না। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর দুর্বলতা কখনো নিজের শক্তি নয়—নিজস্ব ন্যারেটিভই দলের শক্তি।
মানিকগঞ্জের চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের আলাপচারিতায় দেখা গেছে, বিএনপির স্পষ্ট কোনো বয়ান মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। খালেদা জিয়া বা জিয়াউর রহমানের স্মৃতি দলের কর্মীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সাধারণ ভোটারের কাছে ভোট চাওয়ার কার্যকর যুক্তি নয়।
আওয়ামী লীগ একসময় উন্নয়নের ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছিল। দুর্নীতি ও ব্যর্থতার কারণে তা ফিকে হয়ে গেলেও অন্তত একটি শক্তিশালী বয়ান তারা তৈরি করেছিল। কিন্তু বিএনপি এখনো জাতীয়ভাবে তেমন কিছুই উপস্থাপন করতে পারেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে—একটি গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক স্লোগান এবং ন্যারেটিভ তৈরি করা, যাতে আড্ডায়, আলোচনায় ও ভোটের রাজনীতিতে তা কার্যকরভাবে ছড়িয়ে যায়। শুধু জনসমাগমের হিসাব কষে বসে থাকলে নির্বাচনী রাজনীতিতে তাদের ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে।
