অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ নেতা সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে এক হোটেল স্যুটে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও অভিজ্ঞতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবার্গারের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল এ সাক্ষাতে অংশ নেয়।
বিশ্বনেতারা ড. ইউনূসের নেতৃত্ব, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তার আজীবন অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন। তারা বলেন, “আমরা এখানে এসেছি আপনাকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে সমর্থন দিতে। আমরা সম্পূর্ণভাবে আপনার পাশে আছি।” একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি প্রশংসনীয় হলেও ১৬ বছরের দুর্নীতি, শোষণ ও দুঃশাসনের পর দেশটি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
অনেক নেতা অন্তর্বর্তী সরকারকে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এক নেতা বলেন, “আমরা আপনার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। যে কোনো পরামর্শ বা সহায়তা প্রয়োজন হলে আমাদের জানান। সামনে অনেক কাজ অপেক্ষা করছে।”
রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন, মানবাধিকার ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, “মানবাধিকার বিষয়ে আপনাদের অর্জন অসাধারণ।”
এই প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন—স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোসেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট এমলাদেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার সাবেক সভাপতি, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসির সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, কেরি কেনেডি, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা।
বিপুল সমর্থন পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “এটা আমার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আপনাদের সবাইকে একসঙ্গে আমাদের প্রতি সমর্থন জানাতে দেখে আমি মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত।”
তিনি তার প্রশাসনের বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বাংলাদেশ ১৫ বছরব্যাপী এক ধরনের ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৯।”
ড. ইউনূস আরও বলেন, জনগণ দ্রুত পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, অথচ সম্পদের সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে কাজ করতে হবে।
