পাহাড়কে অশান্ত করতে কারা ইন্ধন দিচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি একেএম শহিদুল রহমান। তিনি বলেন, খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার করা হলেও পরিস্থিতিকে বড় আকার দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ ঘটনায় কারও ইন্ধন রয়েছে কিনা এবং বিদেশি কোনও অপশক্তির সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা তদন্ত চলছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন ঘিরে নাশকতার চেষ্টা
র্যাব মহাপরিচালক জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল করতে সরকারবিরোধীরা ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে র্যাব সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
তিনি বলেন, পুলিশের লুট হওয়া প্রায় ১ হাজার ৩৫৭টি অস্ত্রের ৭০-৮০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এগুলো উদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ মাসে র্যাব ৭৬টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং ২৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত র্যাব ৩২১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং ২০৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া হত্যা মামলার ১ হাজার ৮৭২ জন আসামি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৬ হাজার ৬৬৭ জন আসামি, ডাকাত চক্রের ৪৪৩ জন, মানবপাচারের ৭৩ জন এবং অন্যান্য মামলার মোট ৯ হাজার ৫৫৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আশাবাদ
গাজীপুরে র্যাব সদস্যদের আটকে রাখার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে না উল্লেখ করে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, প্রতিদিনই চ্যালেঞ্জ থাকলেও র্যাব যেকোনো পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে।
