সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বেইজিংয়ের কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এখন দুই পুরনো মিত্রকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অস্বস্তির মুখে পড়তে পারে।
সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে—যে কোনো এক পক্ষের ওপর আগ্রাসন মানে দুই দেশের ওপরই আগ্রাসন। এতে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সব ধরনের সামরিক উপায় ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে, যা কার্যত পাকিস্তানের পারমাণবিক প্রতিরোধ সৌদি আরবেও প্রসারিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
কিন্তু সমস্যা হলো, চীন একই সঙ্গে সৌদির সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা করছে এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তিকেও সমর্থন করছে। এখন যদি সৌদি আরবও পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার আওতায় আসে, তাহলে ইরান (চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র) ক্ষুব্ধ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রও সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে চীনের কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ, চীন সৌদিকে তেল ও বিনিয়োগের জন্য পাশে রাখতে চায়, আবার পাকিস্তানকে আঞ্চলিক কৌশলগত কারণে হারাতে পারে না। ফলে উভয় দেশের সম্পর্ক একসঙ্গে রক্ষা করতে গিয়ে চীনকে নতুন এক জটিল সমীকরণের মুখে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, সৌদি–পাকিস্তান সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ দেখা দিতে পারে, যেখানে চীনের প্রতিটি পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ইরান ও পশ্চিমা বিশ্ব।
