কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে স্টেজ থেকে লাথি মেরে ফেলে দিতাম— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সোমবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে তিন মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মনিরুল হক চৌধুরী তাঁর কর্মীদের উদ্দেশে বলছেন, “আমার সিদ্ধান্ত ছিল, প্রথমে প্রতিবাদ করব। পরে দেখলাম, সম্মেলনটা ভাঙার দায় আমার ওপর আসবে। আমি ওইখানেই টিপুকে বন্ধ করে দিতাম, না হলে লাথি মেরে ফেলে দিতাম; যা হতো, হতো। দায় আমার ওপরে আসত। বহু কষ্টে ধৈর্য ধরে বসেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মধ্যে ক্ষোভ, প্রতিক্রিয়া কেউ দেখে না। আমার লোকজন থেকেও কোনো রিঅ্যাকশন পাইনি। আপনারাও চুপ ছিলেন। কথা পরিষ্কার— আমি আপনাদের ওপর হতাশ।”
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি বলেন, “দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে, এখন আওয়ামী লীগ নাই। আপনারা তো ক্ষমতায় চলে গেছেন, কে কী খাবেন সেটা হিসাব করেন।”
গত ২৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সেখানে তিনি বলেন, “কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি আসনের প্রতিটিতে এমন নেতা আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগের নির্যাতনের সময় পাশে ছিলেন। এবার মূল্যায়ন তাঁদেরই হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সদর আসনের মাটি ও মানুষের নেতা সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন এ এলাকার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই বক্তব্য নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেন মনিরুল হক চৌধুরী। পরে দলের অভ্যন্তরীণ এক সভায় তিনি উক্ত মন্তব্য করেন বলে জানা যায়।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ায় ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “উনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা—একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আমি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। উনি আমাকে নিয়ে এমন ভাষায় কথা বলতে পারেন না। আমরা তরুণ প্রজন্ম তাঁদের কাছ থেকে শিখব, কিন্তু উনার এমন আচরণ হতাশাজনক।”
তবে মনিরুল হক চৌধুরী দাবি করেছেন, ভিডিওটি বিকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এমন বক্তব্য আমি দেইনি। আমি মেজাজি মানুষ ঠিকই, কিন্তু সংযত। ওই দিন একটি ঘরোয়া সভায় কর্মীদের বলেছিলাম— টিপু যেভাবে বক্তব্য দিয়েছিল, তোমরা প্রতিবাদ করলে না কেন? আমি যদি প্রতিবাদ করতাম, সম্মেলনটাই ক্ষতিগ্রস্ত হতো।”
তিনি আরও বলেন, “ভিডিওতে যে শব্দগুলো এসেছে, সেগুলো কীভাবে ঢুকল জানি না। আমি উপস্থিত কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি, এমন কথা বলেছি কি না— কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। রাগ থাকতে পারে, কিন্তু এমন ভাষা আমি ব্যবহার করিনি।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। টিপু ও মনিরুলের মধ্যে স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে টানাপোড়েন রয়েছে। ভাইরাল এই ভিডিও সেই দ্বন্দ্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, যা কেন্দ্রীয় পর্যায়েও অস্বস্তি তৈরি করেছে।
