সংবিধান ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার ট্রাইব্যুনালে হতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এর আগে গত বুধবার, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় মোট ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। আদালত আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে — সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এলে বিচার হবে সামরিক আদালতে নাকি ট্রাইব্যুনালে।
প্রসিকিউটর গাজী তামীম বলেন,
“আমাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংবিধান দ্বারা প্রটেক্টেড। সংবিধানেই বলা আছে, এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। অন্য কোনো আইন যদি এই আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, সেটি বাতিল হবে—সংবিধানই প্রাধান্য পাবে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, এটি সিভিলিয়ানসহ সকল ডিসিপ্লিনারি ফোর্সের সদস্যদের বিচার করার ক্ষমতা রাখে। ‘ডিসিপ্লিনারি ফোর্স’ বলতে বোঝানো হয়েছে—আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্স, পুলিশ, র্যাব, ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।”
তামীমের ভাষায়,
“এই আইন তৈরির শুরু থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেউ কর্মরত থাকলেও, সেনা আইনে নয়—এই ট্রাইব্যুনাল আইনেই বিচার হতে হবে।”
এর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম বা নির্যাতনের মতো অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে তাদের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই অনুষ্ঠিত হবে।







