বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে আবারও তীব্র গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ১১টার পর থেকে শুরু হওয়া গোলাগুলির শব্দ শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত থেমে থেমে শোনা যায় বলে জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু পশ্চিমপাড়া ও উখিয়ার থাইংখালী এলাকার স্থানীয়রা জানান, রাত ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির শব্দ ছিল প্রবল। ঘুমধুমের স্থানীয় শিক্ষক বাশার বলেন, “রাতে প্রচুর গুলির শব্দ শুনেছি। ওপারে বড় কোনো সংঘর্ষ চলছে বলে মনে হচ্ছে। এমন শব্দ আগে শোনা যায়নি, সবাই আতঙ্কে আছি।”
স্থানীয় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন সূত্রগুলো জানিয়েছে, মিয়ানমারের মংডু জেলার ঢেকুবনিয়া এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও রাখাইনদের নিয়ন্ত্রণাধীন আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দাবি করা হয়—সংঘর্ষের গুলিতে বাংলাদেশে আশ্রিত মো. ইয়াসের (১৭) নামে এক রোহিঙ্গা আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে, সীমান্ত থেকে বেশ দূরে ঘটছে, তাই বাংলাদেশ সীমান্তে গুলি আসার আশঙ্কা নেই।
ঘুমধুম বিওপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্সবাজার ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লে. কর্নেল এসএম খায়রুল আলম পিএসসি এবং উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা সতর্ক অবস্থানে থেকে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সীমান্ত টহলও জোরদার করা হয়েছে।”
রোহিঙ্গা আহতের প্রসঙ্গে বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের ভেতরে কোনো গুলি প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সীমান্ত থেকে অনেক দূরে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত দেড় বছর ধরে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে আরাকান আর্মি। ইতোমধ্যে তারা রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ শহর ও প্রায় ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে নিলেও এখনো বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।







