বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সুন্দরী গ্রামে এক রাতে রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের ঘরসহ প্রতিমা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে পূজার্চনা করতে গিয়ে মন্দির খালি দেখতে পান স্থানীয় সরস্বতী দাস। তিনি জানান, তার নিজস্ব জমির ওপর বহু বছর ধরে রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির স্থাপন করে নিয়মিত পূজা করে আসছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির ওপর স্থানীয় ভূমিদস্যু মোস্তফা মুন্সী ও তার সহযোগীদের দৃষ্টি পড়ে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে তারা একাধিক মিথ্যা মামলা করেও সফল হতে পারেননি।
সরস্বতী দাস বলেন, “রবিবার বিকেলে পূজা করতে গেলে মোস্তফার স্ত্রী ও তাদের ভাড়াটে লোকজন বাধা দেয়। তাই আমি ফিরে আসি। সকালে গিয়ে দেখি মন্দিরের ঘর নেই, প্রতিমাগুলোও উধাও।”
মন্দির কমিটির সভাপতি অনুপ দাস অভিযোগ করে বলেন, “যারা বিকেলে পূজা বন্ধ করতে এসেছিল, তারাই রাতে জমি দখলের উদ্দেশ্যে মন্দির ভেঙে প্রতিমা সরিয়ে নিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।” তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত মোস্তফা মুন্সীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর সুন্দরী গ্রামে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, এবং মন্দির পুনর্নির্মাণ ও প্রতিমা পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।







