বাংলার বীর বিপ্লবী তিতুমীরের শাহাদাত বার্ষিকী আজ। ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া এই বীর ছিলেন অত্যাচারী জমিদার, নীলকর এবং ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক অমর প্রতীক। মুসলিম সমাজে শিরক-বিদআত দূরীকরণ ও সামাজিক-ধর্মীয় সংস্কার তার আন্দোলনের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল।
তিতুমীর অত্যাচারী হিন্দু জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের আরোপিত ‘দাঁড়ির খাজনা’ এবং মসজিদের করের প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেন। প্রজাদের উপর অবৈধ কর ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় স্থানীয় জমিদার ও নীলকর সাহেবদের সাথে তার সংঘর্ষ ধীরে ধীরে তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে কৃষক সমাজকে সাথে নিয়ে তিনি চব্বিশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর অঞ্চলে শক্তিশালী প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেন।

তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধি দেখে হিন্দু জমিদাররা ইংরেজদের সহায়তা চায়। কিন্তু প্রাথমিক সংঘর্ষে ইংরেজ ও জমিদারদের সম্মিলিত বাহিনী তিতুমীরের বীর সেনাদের কাছে পরাজিত হয়। পরে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে কামানসজ্জিত একটি বড় বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়।
১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের নির্মিত বিখ্যাত বাঁশেরকেল্লায় আক্রমণ করে। কামানের গোলায় কেল্লা বিধ্বস্ত হয় এবং বিপুল সংখ্যক যোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। কয়েকদিন যুদ্ধের পর ১৯ নভেম্বর তিতুমীর শহীদ হন। তার সহযোদ্ধা গোলাম মাসুমসহ প্রায় ৩৫০ জন বিপ্লবী বন্দি হয় এবং পরে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হন।
বাংলার কৃষক ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম এবং বাঁশেরকেল্লার কিংবদন্তি আজও তিতুমীরকে বিপ্লবের এক উজ্জ্বল প্রতীকে পরিণত করে রেখেছে।







