বিবাহিত, দুই সন্তানের জনক এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসভাপতি পদ পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার রেদোয়ান আসিফ। ভোলার তজুমদ্দিনের বাসিন্দা আসিফের এই পদপ্রাপ্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দলীয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রেদোয়ান আসিফ তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মেম্বারের ছেলে এবং ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সাকিবের বড় ভাই। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০১৫ সাল পর্যন্ত বরিশালের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের সুপারিশে তিনি বিজিএমইএ-তে চাকরি নেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি ও সাবেক ছাত্রদল নেতাদের দাবি, আসিফ কোনো দিন তজুমদ্দিনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। উল্টো তাঁর ও তাঁর পরিবারের মাধ্যমে তজুমদ্দিনে অনেক বিএনপি কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। শম্ভুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ঝন্টু ও উপজেলা বিএনপি নেতা জাকির হাওলাদার এই পদপ্রাপ্তিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিপকন জানিয়েছেন, তিনি আসিফের অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন না। পদ পাওয়ার পর তিনি আসিফকে চিনেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিতদের পদ পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও আসিফের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ত্যাগী কর্মীরা।
অভিযুক্ত রেদোয়ান আসিফ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক হলেও তিনি এখনো ছাত্র এবং কোনো দিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আওয়ামী লীগ নেতার মেয়েকে বিয়ে করা এবং তাঁর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ এমপির উপস্থিত থাকাকে অপরাধ হিসেবে মানতে নারাজ এই ছাত্রদল নেতা।







