লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো), হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (এইচআরডিসি) এবং ঢাকা সেন্টার ফর ডায়ালগ (ডিসিডি) আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে শিশু অধিকার সুরক্ষায় চার দফা অঙ্গীকার যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সংগঠনগুলো এ দাবি তুলে ধরে। তারা বলেন, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে শিশু–বিষয়ক নীতিতে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
সংগঠনগুলোর চার দফা দাবি:
১. কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিছিল বা প্রচারণায় শিশুদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।
২. নির্বাচনী সময়ে রাস্তার ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. শিশু অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা।
৪. শিশুদের রাজনৈতিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা।
সভায় লিডোর চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল আলম, আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমান, এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর শাহজাহান খান, ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ওয়াসিফ তামি, এশিয়ান টিভির সাবেক হেড অব নিউজ সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-৬-এর প্রার্থী ড. আবদুল মান্নান, ইউকে বিএনপির প্রচার সম্পাদক মইনুল, ডিসিডির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মেজবসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, শিশুরা ভোট দিতে না পারলেও নির্বাচনী সময়ে তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনই অর্থবহ হয় না।
তারা আরও জানান, শিশুশ্রম, পথশিশুদের শোষণ এবং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে শিশুদের ব্যবহার এখনো অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়—মিছিল-মিটিংয়ে ফুল দেওয়া থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি পর্যন্ত। রাষ্ট্রের সঠিক উদ্যোগের অভাবে পথশিশুরা শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বক্তারা আগের সরকারের ভিক্ষুক পুনর্বাসন উদ্যোগকে স্বল্পমেয়াদি বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যৎ সরকারকে শিশু অধিকার সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুরা যুদ্ধের শিকার হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা হতাশাজনক।
সবশেষে বক্তারা রাজনৈতিক ইশতেহারে পথশিশুদের সুরক্ষা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং শিশুদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। পরিবার ও সমাজকে শিশুদের স্বপ্ন দেখানো এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বানও জানান তারা।







