আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই ভারতকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের করা চুক্তির আদলে ‘ন্যাটো-স্টাইল’ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে—এমন গুঞ্জন তীব্র হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফরের সংখ্যা বেড়েছে। পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান, নৌবাহিনী প্রধান এবং আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিকসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা একের পর এক ঢাকা সফর করেছেন। ইন্ডিয়া টুডের দাবি, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সময়েই পাকিস্তান এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সম্পন্ন করতে আগ্রহী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের করা সাম্প্রতিক চুক্তির মতো হতে পারে। গত সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে বলা হয়—একটি দেশের ওপর আক্রমণ উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। পাকিস্তানে এই চুক্তিকে ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলগত প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হয়।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, পাকিস্তান এখন একই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে করতে চাইছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এটি হলে দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক ব্যবস্থা হবে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আসন্ন নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় পাকিস্তান চায় বর্তমান সরকারের অধীনেই দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করতে।
প্রতিবেদন অনুসারে, দুই দেশ ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য একটি যৌথ ব্যবস্থা গঠন করেছে। এই চুক্তি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া আয়োজনসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে। তবে এতে পারমাণবিক সহযোগিতা থাকবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই। এমন কোনো ধারা অন্তর্ভুক্ত হলে তা ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে আরও দাবি করে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে তৈরি হওয়া ভারত-বিরোধী মনোভাব পাকিস্তানের জন্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তির পক্ষে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা প্রকাশ্যে দুই দেশের মধ্যে সামরিক জোটের কথা বলেন। পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা কামরান সাইদ উসমানি বলেন, ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করলে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঢাকার পাশে দাঁড়াবে।
ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারতীয় বার্তা সংস্থা আইএএনএসের বরাতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে তা একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।







