ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশনের টাকা (ঘুষ) নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে শাস্তিমূলকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত (ক্লোজড) করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (প্রথম শ্রেণি) বাবুল চন্দ্র রায়কে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিপূর্বক সংযুক্ত করা হয়েছে। তাকে ২৪ জুনের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন বিকেলেই তিনি বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজড বলে গণ্য হবেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে সরাসরি ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে সোমবার (২২ জুন) দুপুরের দিকে ফেসবুকে বাবুল চন্দ্র রায়ের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি তার কার্যালয়ে কয়েকজন ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় সরকারি বরাদ্দের বিপরীতে নিজের ১৫ শতাংশ কমিশনের টাকা কত আসে, তা তিনি নিজে টেবিলে বসে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে প্রকল্প সভাপতিদের কাছে দাবি করছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে দাপ্তরিক কক্ষে বসে সরকারি কর্মকর্তার এমন ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি ভাইরাল হলে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে, যার প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় দ্রুত এই ব্যবস্থা গ্রহণ করে।







