স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করা খোদা বকশ চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। পদত্যাগের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর গৃহীত হয়েছে। বুধবার রাতে তার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং একের পর এক নাশকতার ঘটনায় সরকারের ভেতরে চাপ বাড়ছিল। বিশেষ করে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে। এরই প্রেক্ষাপটে খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আসে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। রাজধানীর পল্টন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত ওই হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। অনেক রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আসছিল।
এর পাশাপাশি রাজধানীর মগবাজারে ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া বোমা বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। এসব ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তোলে।
পদত্যাগের পর খোদা বকশ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নৈতিক দায় থেকেই তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সরকারিভাবে এখনো পদত্যাগ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ সরকারে বড় ধরনের বার্তা দিচ্ছে এবং সামনে আরও প্রশাসনিক রদবদল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।







