নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর লক্ষ্যবস্তুতে বড়দিনের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলা ঘিরে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পপন্থী মার্কিন রাজনীতিক ও ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এ হামলাকে ‘বড়দিনের উপহার’ হিসেবে উদ্যাপন করলেও, নাইজেরিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নাইজেরিয়ার কোয়ারা রাজ্যের ওফায় মার্কিন বিমান হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত ছবিতে হামলার পর এলাকার পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো রাজ্যের জাবো গ্রামের একমাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রের খুব কাছাকাছি আঘাত হানে। এতে ওই এলাকার মানুষ চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তবে মার্কিন ডানপন্থী কিছু মহল এই হামলাকে ‘বড়দিনের উপহার’ বলে উপহাস করেছে।
অতি-ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী লরা লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘ইসলামিক সন্ত্রাসীদের ন্যায্য গণহত্যার মাধ্যমে খ্রিস্টানদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে বড়দিন উদ্যাপনের আর ভালো উপায় আছে বলে আমার মনে হয় না।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনাও শুরু হয়েছে।
এর আগে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য র্যান্ডি ফাইন ধর্মীয় সহিংসতার কারণে নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বৃহস্পতিবারের হামলাকে ‘একটি বিস্ময়কর ক্রিসমাস উপহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
শুক্রবার আরও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই হামলার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করেন। উত্তর ক্যারোলিনার রিপাবলিকান সিনেটর টেড বাড বলেন, আইএস নাইজেরিয়ায় হাজার হাজার খ্রিস্টান ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর মৃত্যুর জন্য দায়ী।
উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)–এর সহিংসতায় অসংখ্য মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এসব সহিংসতায় খ্রিস্টান ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে নাইজেরিয়া সরকার বারবার জানিয়ে আসছে, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তারা স্বাগত জানালেও তা অবশ্যই দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনগত কাঠামোর প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রেখেই হতে হবে।







