টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া এবং বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন।
সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, “সংস্কারের বিষয়ে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর এখন একটি দলের প্রধান হঠাৎ করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলছেন। অথচ মজার ব্যাপার হলো, নেতার এই অবস্থানের বিপরীতে কর্মীরা ‘না’ ভোটের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন।” তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যারা এখন সংস্কারের বিরুদ্ধে ‘না’ ভোট চাইছেন, তাদেরও হয়তো অচিরেই ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ তকমা দিয়ে দেওয়া হবে। মূলত স্বচ্ছ রাজনৈতিক অবস্থানের অভাবেই কর্মীরা এখন দিকভ্রান্ত বলে তিনি দাবি করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ জানান, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে দেশে সামরিক বাহিনীর অধীনে যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামরিক ট্রেনিংপ্রাপ্ত সদস্যদের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে বন্ধুত্বের প্রত্যাশা থাকলেও তারা আমাদের সবসময় ‘ছোট ছোট প্রতিবেশী’ হিসেবে গণ্য করতে চায়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের সংস্কারে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তবে তার একটি বড় ভুল ছিল শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফলেই বেগম খালেদা জিয়াকে বসতবাড়ি হারানোসহ সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে এবং পুরো দেশের মানুষ দীর্ঘ শাসনামলে নির্যাতিত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনো একটি দল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। যারা আবার নির্যাতনের শিকার হতে চান বা দেশ ছাড়তে চান, তারা ছাড়া সাধারণ মানুষ আর তাদের পাশে থাকবে না।
বিগত বছরগুলোর হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে ‘হিসাব দাও’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করা হবে। তিনি নিজের সততার উদাহরণ টেনে বলেন, উপদেষ্টা পদ ছাড়ার সময় তিনি সরকারি বাড়ি, খাট এমনকি ব্যবহার্য সামগ্রীও যথাযথভাবে ফেরত দিয়ে এসেছেন।
তারেক রহমানের কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০০১ সালেও বিএনপি কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলেছিল, কিন্তু দীর্ঘ ২৫ বছরেও তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। এবার যখন তারা একই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন কৃষকদের উচিত তাদের কাছে প্রশ্ন রাখা— ‘এই ঋণ আসলে কবে মাফ করবেন?’
ঘাটাইল জেলা এনসিপির নেতাকর্মীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।






