ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের একটি ইউনিটের প্রধান পদে পদায়ন নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ইউনিট প্রধান নির্ধারণ করার রীতি চলে আসলেও, এবার জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে এই পদে ৮ ব্যাচ জুনিয়র এক কর্মকর্তাকে বসানোর অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির মুখে গত ২৪ মে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়।

এই আদেশের মাধ্যমে ইউনিট-৬ এর প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ১৭তম বিসিএসের কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. শফিউর রহমানকে, যিনি ২০১৫ সালে মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়ার সফল অস্ত্রোপচার করে আলোচনায় এসেছিলেন। তাঁর পরিবর্তে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২৫তম বিসিএসের কর্মকর্তা এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ সামি-আল-হাসানকে, যিনি বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা।

মাত্র ২ মাস আগে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হওয়া ডা. আহমেদ সামি-আল-হাসান বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর চিকিৎসা বিজ্ঞান ও গবেষণা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন। সেখানেও তাঁর বিরুদ্ধে সাত বছরের জ্যেষ্ঠ একজন অধ্যাপককে ডিঙিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, বিভাগে মোট ৬টি ইউনিট রয়েছে এবং বাকি ৫টি ইউনিটের প্রধান হিসেবে জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরাই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই ইউনিট প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কারণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়াই অধ্যাপক শফিউর রহমানকে সরিয়ে তাঁর চেয়ে অন্তত ৮ ব্যাচ জুনিয়রকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে অন্য একটি পক্ষের দাবি, এই ইউনিটটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সহযোগী অধ্যাপকরা প্রধান হয়ে আসছেন এবং খোদ অধ্যাপক শফিউর রহমানও প্রথমে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবেই এই ইউনিটের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।
এই পদায়নের বিষয়ে সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ঢামেক কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ মেডিকেল কলেজের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এখানে হাসপাতালের পরিচালকের করণীয় কিছু নেই।







