গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। জামায়াতের দাবি, হ্যাকাররা পরিকল্পিতভাবে আমিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করে। এ ঘটনায় বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামি।
রোববার সকাল ১১টার দিকে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয় এবং জামায়াত, আমির ও শীর্ষ নেতাদের নামে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। কয়েকদিন ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হ্যাকিংয়ের চেষ্টা চলছিল, যার পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার পরপরই একটি দলের কর্মসূচি ঘোষণার ঘটনা ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনি’—এই প্রবাদকেই মনে করিয়ে দেয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিবৃতি দিই এবং রাতেই থানায় জিডি করি। পরবর্তী সময়ে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জুবায়ের বলেন, এটি জামায়াতে ইসলামি ও আমিরে জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি গুরুতর অপপ্রয়াস। নারী, সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট। এই অবস্থানের কারণেই একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হামলার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াতে চেয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানানো হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জনপ্রিয়তায় আতঙ্কিত হয়ে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই সাইবার হামলা চালিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সাইবার টিমের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আমিরের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। ৪টা ৫৫ মিনিটে বিষয়টি তারা শনাক্ত করেন। সাইবার সিকিউরিটি টিম দ্রুত কাজ শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এরপর ৫টা ২২ মিনিটে সংশোধনী ঘোষণা দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানায় জিডি করা হয়।
সাইবার টিমের আরেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান ডিজিটাল তথ্য উপস্থাপন করে বলেন, একই সময়ে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়, যা থেকে বোঝা যায় দুটি অ্যাকাউন্টই একসঙ্গে হ্যাক করা হয়েছিল। প্রথম আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই তার স্ক্রিনশট নেওয়া হয় এবং মধ্যরাতে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যদিও তার আগেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই হ্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন বা অন্য কেউ তার পরিচয় ব্যবহার করতে পারে। বিষয়টি সরকারকে জানানো হবে এবং তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।







