তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর এখন এক ইতিহাস গড়ার পথে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক প্রবণতা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তিনি প্রায় পাঁচ দশকের এক রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে দেবেন। ১৯৭৭ সালে এম জি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) পর তিনিই হবেন প্রথম কোনো চলচ্চিত্র তারকা, যিনি নতুন দল গড়ে সরাসরি রাজ্যের ক্ষমতায় বসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।
নির্বাচনী প্রবণতা অনুযায়ী, বিজয়ের মাত্র দুই বছরের পুরনো দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০০ থেকে ১১৮টি আসনের মধ্যে অবস্থান করছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের খুব কাছাকাছি পৌঁছানো বিজয়ের এই উত্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জয়ললিতা এমজিআরের উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতায় এলেও বিজয় সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র দ্বিমুখী আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন।
বিজয়ের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি। ২০০৯ সালে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠীকে সেবামূলক কাজে নিয়োজিত করেন, যা পরবর্তীতে শক্তিশালী বুথ-স্তরের রাজনৈতিক ভিত্তিতে পরিণত হয়। ২০২৪ সালে দল গঠনের পর তিনি ঘোষণা করেন, রাজনীতি তাঁর কাছে কোনো ‘পার্শ্ব প্রকল্প’ নয়। এমনকি নিজের তিন দশকের সফল চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকেও তিনি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
টিভিকে-র এই উত্থান তামিলনাড়ুর চিরাচরিত রাজনৈতিক ব্যাকরণ বদলে দিয়েছে। এমজিআর যেখানে জনতুষ্টিবাদী ঢেউয়ের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলেন, বিজয়ের আবেদন সেখানে মূলত নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন এবং সুশাসনের প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়ে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও বিজয় যে সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি বা ‘কিংমেকার’ হতে যাচ্ছেন, তা এখন অনেকটাই নিশ্চিত।







