আসন্ন নির্বাচনকে দখলবাজ, চাঁদাবাজ ও ধান্ধাবাজদের বিরুদ্ধে সৎ মানুষের জনরায়ের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার বেলা ১১টায় যশোরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে আয়োজিত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৌশলগত কারণে বুকে ধানের শীষ লাগিয়ে ভোটকেন্দ্রে গেলেও ব্যালটে যেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকেই ভোট দেওয়া হয়। যশোরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে একটি বিশাল ব্যালট বিপ্লব ঘটানোর জন্য তিনি নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তৃতায় দাবি করেন যে, এবারের নির্বাচন জাতিকে স্পষ্টভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। তার মতে, একপক্ষ ভারতীয় দাসত্ব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে অপর পক্ষটি জুলুম, অন্যায় এবং বিদেশি গোলামির বিরুদ্ধে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের গোলামির শৃঙ্খলে বন্দি থাকতে রাজি নয়। এবারের ভোট হবে জাতির দীর্ঘদিনের কলঙ্ক মোচনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এবং আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে, তা এই নির্বাচনের ফলাফলেই নির্ধারিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে দেন। তিনি বলেন, পুলিশ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত বাহিনী নয়, বরং তারা ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের সেবক। বিগত ১৭ বছরে যারা একটি বিশেষ দলের গোলামি করেছে, জুলাই বিপ্লবে তাদের করুণ পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করলে তার ফলাফল শুভ হবে না।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, একটি ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে, তাই ১২ তারিখ সকাল ৭টার মধ্যেই ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার এবং সেখান থেকে না সরার জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানান।
এনসিপি নেতা নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন যশোর সদর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপি নেতারা। বক্তারা একযোগে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে এবং বর্তমান জোটের বিজয় নিশ্চিত করতে রাজপথে সক্রিয় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।







