ভোটাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আধিপত্যবাদমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি ভোটারদের সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটি ভোটের দিন নয়, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে।
তিনি বলেন, ভোটাধিকার যেন কেউ হরণ করতে না পারে, সে জন্য এনসিপি ও তার জোটভুক্ত দলগুলো ভোটকেন্দ্রে থাকবে। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ, আহতদের যন্ত্রণা ও শহীদ পরিবারের আকুতিকে সামনে রেখেই সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবর্তন ও সংস্কারের রাজনীতিই এনসিপির লক্ষ্য। দুর্নীতি, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদমুক্ত একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের রাজনীতিতে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন পুরোনো রাজনীতি ও পরিবর্তনের রাজনীতির মধ্যকার একটি স্পষ্ট বাছাই। নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও অনভিজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি জনগণের কাছে আরেকবার সুযোগ চান। জনগণ আস্থা রাখলে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শাহাদতবরণ করেছেন, তাদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ভাষণে তিনি বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সুনীল অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন ও পরিবেশ কর প্রবর্তনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে গুম, খুন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন নাহিদ ইসলাম।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করা হবে। সার্ক পুনরুজ্জীবন, আসিয়ানে যোগদানের প্রচেষ্টা এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। জনগণের সেবাই হবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর একমাত্র লক্ষ্য। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের হাতে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সিন্ডিকেট ভাঙার অঙ্গীকার করেন এনসিপি আহ্বায়ক।
ভাষণের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কখনোই অন্য কোনো দেশের অনুকরণে চলবে না; বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার সমন্বয়ে একটি সহনশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে। জনগণ সুযোগ দিলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।







