আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিষেধাজ্ঞাকে ‘ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো ভোটার ও সাংবাদিকদের নিজেদের ফোন ঘরে রেখে আসতে হবে। এমনকি কোনো সিটিজেন জার্নালিজম বা মোজো সাংবাদিকতাও সেখানে করা যাবে না। তার মতে, নির্বাচন কমিশন যদি ভোট জালিয়াতি বা ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা না করত, তবে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে পারত না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল না নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত আগে কখনো দেখা যায়নি। এর ফলে ভোটকেন্দ্রে কোনো বিপদ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও ভোটাররা কাউকে কল করে জানাতে পারবেন না। এই নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সিসি ক্যামেরা থাকলেও তা জালিয়াতি রোধে তাৎক্ষণিক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করেন এই ছাত্রনেতা। তার দাবি, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ যেভাবে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের ভিডিও ধারণ করে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারত, তা এখন আর সম্ভব হবে না। মূলত অনিয়মের প্রমাণ যেন কেউ সংগ্রহ করতে না পারে, সেজন্যই কমিশন এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এর আগে গত রোববার নির্বাচন কমিশনের এক চিঠিতে জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটার বা সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। তবে কেবল প্রিজাইডিং অফিসার এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্য বিশেষ অ্যাপ ব্যবহারের প্রয়োজনে ফোন রাখতে পারবেন। হাসনাত আবদুল্লাহ অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।







