ইনকিলাব মঞ্চের শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ সপ্তমবারের মতো পিছিয়েছে। প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে ফেরার পথে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিল। তবে সেই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।
ডিবির দেওয়া চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকি ৬ জন পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল, তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন এবং মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি।
কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা, মা, স্ত্রী এবং শ্যালকসহ ঘনিষ্ঠরা। এদিকে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সিআইডিকে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।







