ঢাকা সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ-এর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সফর উপলক্ষে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার সূচিও রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক বিষয়ও আলোচনায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমান-কে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রস্তাবিত সামরিক চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পল কাপুরের সফর নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন-এর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হয়।
কর্মকর্তারা জানান, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির বাস্তবায়ন, প্রস্তাবিত নিরাপত্তা চুক্তি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো গুরুত্ব পাবে। অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন এ সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা লরা অ্যান্ডারসন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। বাংলাদেশের সঙ্গে জিসোমিয়া ও আকসা নামে দুটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষাচুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে জিসোমিয়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় আসে। সম্প্রতি ওয়াশিংটনেও এ নিয়ে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান পল কাপুর। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই তাঁর এই সফর।







