২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া বায়তুল মোকাররমের সাবেক খতিব মুফতি রুহুল আমীনকে দীর্ঘদিন পর প্রকাশ্যে দেখা গেছে। বুধবার রাজধানীতে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি সশরীরে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সঠিক নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মুফতি মো. রুহুল আমীনকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবের পদ থেকে অপসারণ করে। পদ হারানোর পর এই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য সভায় তাঁর উপস্থিতি দেখা গেল।
আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বোর্ডের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করেন যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে অপরাধ ও অনিয়ম ঘটলে তার সুষ্ঠু বিচার হতে হবে; তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক সমাজকে ঢালাওভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অপপ্রচার রোধে সভায় একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। ১১ সদস্যের গঠিত এই মনিটরিং সেলে পদচ্যুত খতিব মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন ছাড়াও আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মাহফুজুল হক এবং মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভীসহ শীর্ষস্থানীয় কওমি আলেমদের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।







