ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দেওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা এই আদেশ দেন।
আদালত এই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে পলাতক ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বর্তমানে আসামিদের মধ্যে ৪ জন কারাগারে রয়েছেন এবং ২ জন জামিনে আছেন। মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেবেন বলে আগে জানিয়েছিলেন, তবে এদিন তিনি কোনো নারাজি জমা দেননি।
পিবিআই-এর অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার আগে হামলাকারীরা তার পরিবারের কাছে ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেছিল। মোবাইল চুরির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই টাকা চাওয়া হয়। তবে তোফাজ্জলের চাচা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ক্রিকেটের স্টাম্প ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতেই তার মৃত্যু হয়।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর শাহবাগ থানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করেছিল। তদন্ত শেষে পিবিআই ২৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। অভিযুক্তদের তালিকায় হলের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে— জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ বিপুল, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহসহ মোট ২৮ জনের। পলাতক থাকা ২২ জনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শিক্ষার্থীদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।







