ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রথমবারের মতো দেওয়া এক রেকর্ডকৃত টেলিভিশন ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দাবি মানা না হলে এসব ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত থাকবে।
ভাষণে মোজতবা খামেনি দেশের জনগণকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বললেও এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
নতুন এই সর্বোচ্চ নেতা জানান, ইরান মূলত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ‘শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ’ নিতে এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে। দেশ যখন নানামুখী বৈদেশিক চাপের মুখে, তখন ইরানকে বহিঃশত্রুর হাত থেকে রক্ষা করায় তিনি সামরিক বাহিনীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন যে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরানকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করার ইচ্ছা পোষণ করেছে। তিনি সেই সব যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানান, যারা এই কঠিন সময়ে দেশের সুরক্ষায় সম্মুখ সমরে কাজ করছেন।
বিবৃতির শেষ অংশে তিনি সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মানবিক কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে রয়েছে আহতদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।







