সরকারি তিতুমীর কলেজের সুফিয়া কামাল ছাত্রীনিবাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রোকনুজ্জামান রাকিব কলেজের শহীদ মামুন হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ছাত্ররাজনীতিবিরোধী আন্দোলন চলাকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩ মে সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রদলের একটি কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। এরপরই সাধারণ ছাত্রীরা হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হন। এই আন্দোলনের জেরে কলেজ প্রশাসন কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাতে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা ছাত্রীনিবাসের মূল ফটকের তালা ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হলের গেটের সামনে বিক্ষোভকারী ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন ছাত্রদল নেতা রাকিব। শিক্ষার্থীরা তাকে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে গালিগালাজ করেন এবং তাঁদের দিকে তেড়ে যান বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের দাবি—কলেজ প্রশাসন সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এবং কোনো তদন্ত ছাড়াই তাঁদের সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁদের ভাষ্যমতে, হলের সিট বাতিলের নোটিশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। নির্ধারিত দিনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত না হয়েই একতরফাভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্রী হলে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষার্থীর সিট ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিতের আহ্বান জানান।







