ফেসবুকে তরুণী ও সুন্দরী নারী সেজে সমন্বিতভাবে একটি বড় ধরনের ভুয়া আইডি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা মূলত মাদারীপুর ও ফরিদপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে বিএনপির পক্ষে এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর এক অনুসন্ধানে এমন অন্তত ১২টি প্রোফাইলের সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা একে অপরের পোস্ট শেয়ার করে নেটওয়ার্কটিকে শক্তিশালী করছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই নেটওয়ার্কের অন্যতম চরিত্র ‘ইহিতা ইশরার’ নিজেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে দাবি করলেও তার ব্যবহৃত ছবিগুলো মূলত ভারতীয় মডেল রিয়ানা রুশার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে চুরি করা। একইভাবে ‘পৌষালী আহমেদ অথৈ’ নিজেকে আর্মি মেডিকেল কলেজের লেকচারার দাবি করলেও ওই কলেজে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তার ব্যবহৃত ছবিও রিয়া দেব রয় নামের এক ভারতীয় মডেলের।

এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা বিশেষ এক কৌশলে কাজ করে। ইহিতা ইশরার কোনো পোস্ট করলে Nawreen Jahan Hafsa, Meherin Ahnaf এবং Tazkia Amir Bintey Azad-এর মতো আইডিগুলো মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তা শেয়ার করে। মজার বিষয় হলো, অধিকাংশ আইডির ঠিকানাই বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় দেওয়া হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত সমন্বিত কর্মকাণ্ডের (Coordinated Inauthentic Behavior) ইঙ্গিত দেয়।
টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ‘নওরীন জাহান হাফসা’র আইডিতে প্রভাবশালী আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ফ্রেন্ডলিস্টে দেখা গেছে। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, তার প্রোফাইল ছবিটিও রুকাইয়া আফরোজ নামের এক জাপানিজ মডেলের। এই আইডিগুলো থেকে একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে জয়ধ্বনি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের নিয়ে কুৎসা বা ট্রল ছড়ানো হচ্ছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে ‘জেবা আফসারা’ নামের একটি আইডি ঘিরে। তিনি নিজেকে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের কন্যা দাবি করেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, এমপি বাবুলের কোনো কন্যা সন্তান নেই। তার পরিবার এই পরিচয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া বলে নিশ্চিত করেছে।
ভুয়া আইডির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারণা বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকশ ভুয়া পেজ ও আইডি সরিয়ে দিয়েছিল মেটা (ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান)। সম্প্রতি ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে ‘হাহা’ রিয়েকশন এবং ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
এই ভুয়া সুন্দরী প্রোফাইলগুলোর মাধ্যমে দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী এবং তরুণ রাজনীতিকদের বন্ধু তালিকায় যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বয়ান প্রচার করা হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে এমন আইডিগুলোর ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা বা তাদের পোস্টে রিয়েকশন দেওয়া সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের ডিজিটাল নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।







