ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভা গঠন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন হলেও এখন সবার নজর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দিকে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ বা পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও বিএনপি এখনই কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত বা ইমপিচমেন্টের (অভিশংসন) পথে হাঁটতে রাজি নয়।
বিএনপি দলীয় সূত্রমতে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের প্রশ্নে দলটি কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি অবিলম্বে তাকে সরানোর দাবি তুললেও বিএনপি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং আইনি জটিলতা মাথায় রেখে সময় নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ছয় মাস পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিলে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়েও বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি বহাল থাকবেন, যা রাজনৈতিকভাবে দলটির জন্য সুবিধাজনক।
রাষ্ট্রপতি পদে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখেন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্বও দিয়েছিলেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। ড. মোশাররফ ছাড়াও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে প্রবীণ নেতা ড. আবদুল মঈন খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে সরকারের কোন পদে দেখা যাবে তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন চলছে। স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে বেছে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিপূর্বে চমক দেখিয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি পদেও এমন কোনো অপ্রত্যাশিত নাম আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
উল্লেখ্য, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও তিনি নিজে থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে তিনি কিছুটা ‘অপমানিত’ বোধ করছেন এবং নির্বাচনের পর পদত্যাগে তার আগ্রহ রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নাকি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের মাধ্যমে এই পদের পরিবর্তন ঘটে।







