যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) মতো বড় ধরনের নাশকতার মাধ্যমে ইরানকে ফাঁসানোর এক ভয়াবহ নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি। আলজাজিরার বরাতে জানা গেছে, এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের চক্রের অবশিষ্ট সদস্যরা কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
আলী লারিজানি এক বিবৃতিতে জানান, তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন যে এপস্টাইন গ্যাংয়ের অবশিষ্ট সদস্যরা ৯/১১-এর মতো একটি কৃত্রিম সংকট তৈরির পরিকল্পনা করছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এই পরিকল্পিত হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে কোণঠাসা করা।
বিবৃতিতে লারিজানি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান এ ধরনের যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে তেহরানের কোনো যুদ্ধ নেই এবং এ ধরনের কোনো নাশকতামূলক কার্যকলাপে ইরান জড়িত নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে আমেরিকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মহলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের হাজার হাজার গোপন নথি ফাঁস হওয়ার পর এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, প্রয়াত এই অপরাধী কয়েক দশক ধরে মার্কিন অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নারী ও শিশু পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ চালিয়ে আসছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বিভিন্ন সময়ে এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা গেছে, যদিও ট্রাম্প তাঁকে ‘অদ্ভুত লোক’ বলে অভিহিত করে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের এই অনৈতিক ও কলঙ্কিত অধ্যায়গুলোকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।







