সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ এক বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, ঈদ যাত্রায় কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না, বরং অনেক পরিবহন মালিক ভাড়ায় ‘ডিসকাউন্ট’ দিচ্ছেন। তবে মন্ত্রীর এই দাবির বিপরীতে মাঠপর্যায়ে সাধারণ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্ত তথ্যে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাত্রীদের অভিযোগ ও টিকিটের প্রমাণ যাচাই করে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি রুটেই সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-কুষ্টিয়া রুটে এসবি সুপার ডিলাক্সের এসি বাসের ভাড়া ১৪০০ টাকার স্থলে ১৭০০ টাকা এবং নন-এসি বাসে অতিরিক্ত ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ঢাকা-রংপুর রুটে। যেখানে এসি বাসের স্বাভাবিক ভাড়া ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা, সেখানে ঈদের টিকিটে ২০০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। একই চিত্র ঢাকা-নওগাঁ রুটেও; সেখানে এস আর ট্রাভেলসের বিজনেস ক্লাস এসি বাসের ভাড়া ১২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮০০ টাকা করা হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলেও ভাড়ার নৈরাজ্য থেমে নেই। গুলিস্তান-বরিশাল রুটে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের ৫০০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-যশোর রুটেও ১০০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি হানিফ এন্টারপ্রাইজের মতো বড় পরিবহনগুলোও সিট প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা বাড়তি ভাড়া গুনছে যাত্রীদের থেকে।
যাত্রীরা মন্ত্রীর বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা আগের ভাড়ার তালিকা ও বর্তমান টিকিটের ছবি আপলোড করে এই হয়রানির প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিশেষ করে এসি ও স্লিপার বাসগুলোতে ভাড়ার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন মহল প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন কেবল পরিবহন মালিকদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়। মন্ত্রীকে সরাসরি সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।







