সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ এক বক্তব্যে বলেছেন— “কোথাও ঈদ যাত্রার ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না, বরং অনেক পরিবহন মালিক ভাড়ায় ডিসকাউন্ট দিচ্ছেন।”
কিন্তু এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে আমরা কিছু সময় আগে একটি পোস্ট দিয়ে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা জানতে চাই। সেখানে শতাধিক অভিযোগ আসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে। অভিযোগকারীরা আগের ভাড়া ও ঈদের ভাড়ার টিকিটের ছবি দিয়ে প্রমাণও দিয়েছেন।
সবার সুবিধার্থে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর মধ্য থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রমাণ তুলে ধরা হলো—
1️⃣ ঢাকা–কুষ্টিয়া (এসবি সুপার ডিলাক্স)
সাধারণ সময়ে ওয়েবসাইটে ভাড়া:
চেয়ার কোচ: ৬০০–৬৫০ টাকা
হুন্দাই এসি: ১৪০০ টাকা
কিন্তু ঈদ যাত্রায় (১৭ মার্চ):
চেয়ার: ৭০০ টাকা
এসি: ১৭০০ টাকা
2️⃣ ঢাকা–রংপুর
সাধারণ ভাড়া:
নন-এসি: ৮০০ টাকা
এসি (হুন্দাই/ভলভো): ১৪০০–১৫০০ টাকা
ঈদের টিকিটে:
নন-এসি: ৮৭০ টাকা
এসি: ২০০০–২৪০০ টাকা
➡️ প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া!
3️⃣ ঢাকা–নওগাঁ (এস আর ট্রাভেলস)
সাধারণ এসি ভাড়া: ৮০০ টাকা
ঈদ যাত্রায়: ১২০০ টাকা
4️⃣ ঢাকা–নওগাঁ বিজনেস ক্লাস এসি
সাধারণ ভাড়া: ১২০০ টাকা
ঈদ যাত্রায়: ১৮০০ টাকা
5️⃣ গুলিস্তান–বরিশাল (গোল্ডেন লাইন পরিবহন)
নন-এসি সাধারণ ভাড়া: ৫০০ টাকা
ঈদে নেওয়া হচ্ছে: ৭০০ টাকা
6️⃣ হানিফ এন্টারপ্রাইজ
সাধারণ ভাড়া: ৩ সিটে ১৬৫০ টাকা (প্রতি সিট ৫৫০)
ঈদে: ১৯৫০ টাকা (প্রতি সিট ৬৫০)
7️⃣ লক্ষ্মীপুর–যশোর
সাধারণ ভাড়া: ১০০০ টাকা
ঈদ যাত্রায়: ১৫০০ টাকা
8️⃣ 9️⃣ 🔟
একইভাবে স্বাভাবিক ভাড়ার তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ দেখা গেছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব রুটেই এমন অভিযোগ এসেছে। বিশেষ করে এসি ও স্লিপার বাসে কোথাও কোথাও প্রায় দ্বিগুণ ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে।
আমরা প্রশাসন, বিশেষ করে মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করবো, শুধু ঘোষণা না দিয়ে বাস্তব অবস্থা যাচাই করুন। আগের মতো নির্দিষ্ট কিছু পক্ষের কথা শুনে নয়, সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলুন। তাহলে আজকের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য সহজেই বোঝা যাবে।







