বিএনপি নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে ইসলাম ধর্মের অন্যতম ফরজ বিধান ‘যাকাত’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, যাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি অনেক ভালো—এমন বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো যাকাত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য পালন করা বাধ্যতামূলক বা ফরজ। সমালোচকরা বলছেন, অন্য রাজনৈতিক দলকে ঘায়েল করতে গিয়ে নিলোফার মনি পবিত্র এই বিধানকে চাঁদাবাজির মতো একটি নিকৃষ্ট অপরাধের সঙ্গে তুলনা করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। এটি কেবল ধর্মীয় অবমাননাই নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাণ্ডজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে অনেকেই বলছেন, ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে একটি গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইসলামের দৃষ্টিতে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধানকে একজন রাজনৈতিক নেত্রী যখন জনসমক্ষে ছোট করে কথা বলেন, তখন তা তাঁর ধর্মীয় জ্ঞানহীনতা ও মূর্খতাকেই ফুটিয়ে তোলে।
এর আগেও নিলোফার চৌধুরী মনি শহীদ ওসমান হাদীকে ‘গিনিপিগ’ বলে সম্বোধন করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর সংবেদনহীন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। এবার পবিত্র যাকাত নিয়ে কটাক্ষ করার ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা বলছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার মোহে মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, গঠনমূলক সমালোচনা বা রাজনীতির খাতিরে আল্লাহর বিধানকে অপমান বা অবজ্ঞা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে ফরজ বিধানকে অপরাধের সঙ্গে তুলনা করা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত হানার শামিল। নিলোফার মনির এমন অবিবেচনাপ্রসূত বক্তব্য দলের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।







