বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের আর্থিক খাতে অস্থিরতা এবং এস আলম গ্রুপের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এস আলমের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এস আলম ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে।
নবনিযুক্ত গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ‘ইনটেক লিমিটেড’ নামক একটি লোকসানি প্রযুক্তি কোম্পানির স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নিয়োগের আগে-পরে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে এই কোম্পানিটি এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম লাবুর পরিবার ও সহযোগীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও এস আলম গ্রুপের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর এস আলম গ্রুপের ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন পটিয়ার বিএনপি দলীয় এমপি এনাম এবং আবু সুফিয়ান। এছাড়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন এস আলমের গাড়িতে করে এলাকায় গিয়ে সংবর্ধনা নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের পেছনে এস আলম গ্রুপ কয়েকশ কোটি টাকা ঢেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি আসনে তারেক রহমান এস আলমের একান্ত অনুগতদের মনোনয়ন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে নোয়াখালী-৫ আসনের ফখরুল এবং চন্দনাইশের জসিম অন্যতম, যারা এস আলমের আর্থিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন বলে পরিচিত।
আর্থিক খাতের বিশদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের পর এস আলম গ্রুপ ৪৫টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা বের করে নেয়। বর্তমানে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকায়। এই লুটপাটে সরাসরি সহযোগিতা করেছে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হাজার হাজার কর্মকর্তা, যাদের একমাত্র যোগ্যতা ছিল তারা এস আলমের নিজ এলাকার বাসিন্দা।
৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে সশস্ত্র যুবদল ক্যাডার নয়নের নেতৃত্বে প্রধান কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে বিএনপি সরকারের নতুন গভর্নর এবং এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি যোগসাজশে এস আলম গ্রুপ আবারও ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক খাত লুটপাটের স্বপ্ন দেখছে বলে সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।







