ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধের ময়দান ছাপিয়ে এবার কূটনৈতিক ফ্রন্টেও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ‘স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর বরাতে জানা গেছে, তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান কোনো যুদ্ধবিরতির জন্য ‘ভিক্ষা’ করছে না; বরং তারা এই সংঘাতের একটি চূড়ান্ত ও টেকসই ফয়সালা চায়।
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে আরাগচি অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, এই সমুদ্রপথ সবার জন্য বন্ধ নয়। আরাগচির ভাষায়, হরমুজ প্রণালী কেবল ইরানের ‘শত্রু’ এবং যারা তাদের আগ্রাসনকে সমর্থন দিচ্ছে, শুধুমাত্র তাদের জন্যই বন্ধ রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে জানান, যেসব দেশ এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না, তারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয় ও অনুমতি সাপেক্ষে নির্বিঘ্নে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারছে। এর মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট করে দিল যে, হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে অনেকেই মনে করেছিলেন ইরান হয়তো আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগ খুঁজছে। কিন্তু আরাগচি সেই জল্পনা নাকচ করে দিয়ে জানান, ইরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না। তারা চায় এমন এক সমাধান যা ভবিষ্যতে এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান বর্তমানে ‘কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ’-এর মাধ্যমে আমেরিকা ও তার মিত্রদের কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে ‘বন্ধু’ ও ‘শত্রু’ চিহ্নিত করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তেহরান বিশ্বশক্তিগুলোকে এক কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।







