রাশিয়া বর্তমানে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরানকে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ছবি এবং উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করছে বলে দাবি করেছে মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’। এই সহযোগিতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবস্থান শনাক্ত করা ইরানের জন্য আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মস্কো ইরানকে কেবল প্রযুক্তি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য দিয়েও সহায়তা বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে ইরান এখন নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্বার্থের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের যে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, তা এখন ইরানের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে। মস্কোর সামরিক বিশেষজ্ঞরা ইরানকে ড্রোন ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছেন, যা রণক্ষেত্রে ইরানি বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই সামরিক সহযোগিতার বিনিময়ে রাশিয়া নিজেও কৌশলগত সুবিধা পাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিবদ্ধ হওয়ায় মস্কো বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া ও ইরানের এই গভীর সামরিক অংশীদারত্ব কেবল একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্য—উভয় ফ্রন্টেই পশ্চিমা শক্তিগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।







