সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো দুম্বা ও খেজুরের প্রকৃত উৎস গোপন করে তা স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বিদেশ থেকে আসা এসব ত্রাণ বা উপহার বিতরণের সময় অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি ‘বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব বরাদ্দ’ হিসেবে প্রচার করে থাকে। ফলে দাতা দেশের নাম আড়ালে চলে যায় এবং সাধারণ মানুষ প্রকৃত তথ্য জানতে পারে না।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অস্পষ্টতা ও অস্বচ্ছতার অবসান ঘটিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি এক ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানান যে, সৌদি সরকার থেকে আসা উপহারের পণ্যগুলো কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছায় এবং সেখানে তথ্যের কতটা লুকোচুরি করা হয়। তাঁর এই লাইভ প্রচারের পর সারা বাংলাদেশের মানুষ প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে সচেতন হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর লাইভে সরাসরি দেখান যে, সৌদি আরব থেকে আসা খেজুরের কার্টনগুলোতে দাতা দেশের নাম স্পষ্ট থাকলেও বিতরণের সময় তা আর উল্লেখ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে সরকারের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে প্রচার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করা হয়। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় খেজুরের সঠিক হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা দাবি করেন, অন্য দেশের দেওয়া উপহারকে নিজের বলে চালিয়ে দেওয়া কেবল অনৈতিক নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের তথ্য জালিয়াতি। হাসনাত আবদুল্লাহর সেই লাইভের সূত্র ধরে সাধারণ মানুষ এখন থেকে প্রতিটি বিদেশি সহায়তার উৎস এবং সঠিক বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সজাগ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।







